![]()

ডা. এম. ফারহাদ | মেডিসিন ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ
রাতে বিছানায় যাওয়ার পরও ঘুম না আসা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা খুব ভোরে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা অনেকের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া এবং কাজের সক্ষমতা কমে যেতে পারে।
ঘুমের সমস্যা হলেই ঘুমের ওষুধ শুরু করা সবসময় প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে জীবনযাপন ও ঘুমের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনে ঘুমের মান উন্নত করা সম্ভব।
প্রথমত, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার অভ্যাস করুন। ছুটির দিনেও এই সময়সূচি যতটা সম্ভব বজায় রাখুন। ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা টিভির ব্যবহার কমিয়ে দিন। সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন।
দিনের বেলায় নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা হালকা ব্যায়াম ঘুমের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো। রাতে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে হালকা খাবার গ্রহণ করুন এবং ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন।
দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপও ঘুমের অন্যতম বাধা হতে পারে। ঘুমানোর আগে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, বই পড়া বা শান্ত কোনো রুটিন অনুসরণ করা মনকে শিথিল করতে সাহায্য করতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকলে নিজে থেকে ঘুমের ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনিদ্রার পেছনে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, অন্যান্য শারীরিক সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ঘুম-সম্পর্কিত রোগ থাকতে পারে।
ভালো ঘুম শুধু ওষুধের ওপর নির্ভরশীল নয়—সঠিক কারণ চিহ্নিত করে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাও হতে পারে সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যেকোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্তের আগে যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
